বুধবার   ফেব্রুয়ারী ৪ ২০২৬   ২২  মাঘ  ১৪৩২


দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ​নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বশেষ আপডেটগুলো নিচে দেওয়া হলো: ​১. সরকারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ​সর্বোচ্চ সতর্কতা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ​বিশেষ নিরাপত্তা বলয়: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত যাতায়াতের পথে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির সোয়াত (SWAT) টিমের সদস্যরা মাঠে থাকবেন। ​গোয়েন্দা নজরদারি: ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পর্যাপ্তসংখ্যক গোয়েন্দা পুলিশ (DB) মোতায়েন থাকবে। ​বিমানবন্দরে কড়াকড়ি: নিরাপত্তার স্বার্থে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে যাত্রী ছাড়া দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ​২. বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ​চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স (CSF): সরকারি নিরাপত্তার পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা দল সিএসএফ তারেক রহমানের সুরক্ষায় কাজ করবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম এই সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ​শৃঙ্খলার নির্দেশনা: দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে থাকার এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ​৩. গন্তব্য ও কর্মসূচি ​তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত জনসভায় যোগ দিতে পারেন এবং সেখানে ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে। এরপর তিনি তাঁর মা খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে বা গুলশানের বাসভবন 'ফিরোজা'য় যাবেন। ​সংক্ষেপে, প্রশাসন ও পুলিশ তাঁর নিরাপত্তাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং বিমানবন্দর থেকে তাঁর অবস্থান পর্যন্ত কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হয়েছে। সম্ভাব্য সময়সূচি ও কর্মসূচি ​আগমন: লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরের দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ​সংবর্ধনা: বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে বিশাল সংবর্ধনা জানাবেন। ​প্রধান সমাবেশ (পূর্বাচল): বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত একটি বিশাল গণসমাবেশে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে প্রথম রাজনৈতিক ভাষণ দেবেন। ​পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ: সমাবেশ শেষে তিনি গুলশানের বাসভবন 'ফিরোজা'-তে যাবেন। সেখানে তিনি তাঁর মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করবেন এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেবেন। ​প্রশাসনের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ​স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, তাঁর নিরাপত্তায় যেসব বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: ​রুফটপ পাহার: বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল এবং গুলশান পর্যন্ত রাস্তার পাশের ভবনগুলোর ছাদে পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে। ​সিসিটিভি মনিটরিং: পুরো যাত্রাপথ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং একটি অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। ​ট্রাফিক ডাইভারশন: কাল রাজধানীতে ব্যাপক ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কিছু রাস্তায় যানচলাচল সীমিত বা ডাইভারশন করার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর সড়ক ও কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় বাড়তি চাপ থাকতে পারে। ​নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা ​বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে: ​বিমানবন্দরের ভেতরে কোনো নেতাকর্মী প্রবেশ করবেন না। ​শোভাযাত্রার সময় যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। ​শৃঙ্খলার জন্য কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী (ভলান্টিয়ার) নিয়োগ করা হয়েছে।

MD SAD MIAH

Updated 25-Dec-24 /   |   সিলেট সদর (সিলেট) উপজেলা প্রতিনিধি   Read : 62