মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক সংঘর্ষ এখন আর কেবল সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলায় সীমাবদ্ধ নেই—বরং এটি রূপ নিচ্ছে তথ্য যুদ্ধেও। এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে ইরান ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে—ইসরায়েল নাকি ইরানি হামলায় তাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি গোপন রাখছে।
ইরানি দাবি: ইসরায়েলের ভেতরে তীব্র আঘাত হানা হয়েছে
ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC) এর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “আমাদের লক্ষ্যভেদী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের একটি রাডার স্টেশন, একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার, এবং একটি গ্যাস স্টোরেজ ইউনিট।”
ইরান দাবি করে, এই হামলায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি তারা হামলার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
উপগ্রহ চিত্রে মিলছে ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি উপগ্রহ বিশ্লেষণকারী সংস্থা জানায়, ইসরায়েলের বেয়ারশেভা অঞ্চলের কাছাকাছি একটি এলাকায় গত সপ্তাহে বড় ধরনের বিস্ফোরণ এবং ধোঁয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়াও কিছু কাঠামোর ধ্বংসস্তূপ ও আগুন লাগার চিহ্নও পাওয়া গেছে, যা কোনো বড় ধরণের আঘাতের ইঙ্গিত দেয়।
ইসরায়েলি নীরবতা ও অস্বীকার
তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, “আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সফলভাবে শত্রুর প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের সামরিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণভাবে সচল রয়েছে।”
কিন্তু অভ্যন্তরীণ সূত্র মতে, ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সেন্সর করে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা কী বলছেন?
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. ইয়োহান মেয়ার মনে করেন, “ইসরায়েল এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো অত্যন্ত কৌশলে পরিচালিত হয়। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য লুকানো হতে পারে কৌশলগত প্রতিক্রিয়ার জন্য অথবা জনসাধারণের মনোবল ধরে রাখতে।”
তিনি আরও বলেন, “তবে এধরনের গোপনীয়তা বিপজ্জনক। এতে গুজব ছড়ায়, আন্তর্জাতিক জনমত বিভ্রান্ত হয় এবং সংঘাতের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের মহাসচিব উভয় পক্ষকে "সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও মানবিক বিবেচনা" অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়া একযোগে একটি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
শেষ কথা: পরিস্থিতি এখনও জটিল