বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
সরকার সারা দেশে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি প্রজাতির চারা গাছ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আগ্রাসী ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই প্রজাতির চারা মজুদকারীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য জেলা বান্দরবানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৪০০ টাকা।
এই অর্থে ধ্বংস করা হয় মোট ৭ লাখ ৯২ হাজার ১০০টি চারা গাছ। প্রতিটি চারার জন্য নির্ধারণ করা হয় চার টাকা করে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বান্দরবান জেলার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এম. এম. শাহ নেয়াজ এর দিকনির্দেশনায় ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় গত কয়েকদিনে তিনটি উপজেলায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ধ্বংসকৃত চারা ও ক্ষতিপূরণ বিভাজন:
লামা উপজেলা: ৬ লাখ ২৭ হাজার ২০০টি চারা, ক্ষতিপূরণ ২৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা
আলীকদম উপজেলা: ১ লাখ ৫৩ হাজার চারা, ক্ষতিপূরণ ৬ লাখ ১২ হাজার টাকা
বান্দরবান সদর: ১১ হাজার ৯০০ চারা, ক্ষতিপূরণ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার মোট ক্ষতিপূরণের চাহিদা রয়েছে ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ২০০টি চারা গাছের জন্য। যার মধ্যে ইউক্যালিপটাস ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১০০টি ও আকাশমনি ৭ লাখ ২৫ হাজার।
প্রথম ধাপে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ৯২ হাজার ১০০টি চারা গাছের জন্য। বর্তমানে লামা ও আলীকদম উপজেলাকে সম্পূর্ণভাবে এবং সদর উপজেলাকে আংশিক ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের চিত্র:
২৯ জুলাই সকাল ১২টায় বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের কাইচতলী এলাকায় ‘আবুল খায়ের নার্সারি’তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নেতৃত্বে ও ইউএনও জনাবা উম্মে হাবিবা হিরা মনির উপস্থিতিতে ১১ হাজার ৯০০টি চারা ধ্বংস করা হয়। নার্সারি মালিক আবুল খায়েরের কাছ থেকে ভবিষ্যতে ক্ষতিকর চারা উৎপাদন না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়।
নার্সারি মালিক আবুল খায়ের বলেন, “আমি প্রায় ৭০ হাজার চারা উৎপাদন করেছি। সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণার পর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তবু ক্ষতিপূরণ পেয়ে সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাই। বাকি চারার জন্যও সরকার যেন সহযোগিতা করে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাবা উম্মে হাবিবা হিরা মনি বলেন, “চারা ধ্বংসের পর মালিকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ উৎপাদন করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের বান্দরবান জেলা উপপরিচালক এম. এম. শাহ নেয়াজ বলেন, “এই দুই প্রজাতির চারা উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রি সরকারি নির্দেশে নিষিদ্ধ। পূর্ব থেকে উৎপাদিত চারা ক্ষতিপূরণের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সকল নাগরিককে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করছি।